নিঝুম রাতের নীরবতা ভেঙে আচমকা একটা শব্দ হলো। মেঘলা ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ঠিক তিনটে।
বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই সাথে ঝোড়ো হাওয়া। জানালার কাঁচগুলো বাতাসে থরথর করে কাঁপছে। মেঘলা ভাবল হয়তো জানালার পাল্লাই বাতাসে বাড়ি খাচ্ছে। সে বিছানা থেকে নেমে পায়ে পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু জানালার কাছে পৌঁছানোর আগেই তার পায়ের পাতা কেমন যেন ভিজে উঠল।
মেঝেতে হাত দিয়ে মেঘলা দেখল, চারদিক জলে ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, জলটা জানালা দিয়ে আসছে না। জলটা আসছে ঘরের ঠিক মাঝখান থেকে, যেন মেঝে ফুঁড়ে কোনো অদৃশ্য উৎস থেকে জল বেরোচ্ছে!
ভয়ে মেঘলার বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। সে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালাতে গেল, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটটা অন করতেই তার চোখ চড়কগাছ!
মেঝের জলটা সাধারণ জল নয়—একেবারে স্বচ্ছ, নীলচে রঙের। আর সেই জলের ওপর ভেসে আছে ছোট ছোট কাগজের নৌকা। প্রতিটা নৌকায় নিখুঁত অক্ষরে কিছু একটা লেখা। মেঘলা কাঁপতে কাঁপতে একটা নৌকা তুলে নিল। আলো ফেলে দেখল, সেখানে লেখা:
> *"তুমি কি ভুলে গেছো মেঘলা? আজ তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে এসেছে।"*
>
মেঘলার মনে পড়ে গেল, ঠিক পনেরো বছর আগে আজকের এই বৃষ্টির রাতেই সে তার প্রিয় খেলনা আর ডায়েরিটা একটা বাক্সে ভরে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল, এক ভারী বৃষ্টির বন্যায় যা ভেসে গিয়েছিল।
সে চমকে উঠে দেওয়ালের দিকে তাকাল। জলের আয়নায় তার নিজের ছায়ার বদলে দেখা যাচ্ছে আট বছরের এক ছোট্ট মেয়েকে, যে খিলখিল করে হাসছে আর তার দিকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে।
মেঘলার ভয়টা এক নিমেষে কেটে গিয়ে এক অদ্ভুত শান্তিতে মনটা ভরে গেল। সে মুচকি হেসে জলের ওপর বসে পড়ল, আর আলতো করে একটা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিল স্মৃতির টানে।
গল্পটি কেমন লাগল?