এক যে ছিল ছোট্ট কাঠবিড়ালি, তার নাম টিংকু। টিংকু দেখতে যেমন মিষ্টি, তেমনি ছিল চঞ্চল। সারাদিন এ-ডাল থেকে ও-ডালে লাফিয়ে বেড়ানো আর নতুন নতুন জিনিস খুঁজে বেড়ানোই ছিল তার কাজ।
তবে টিংকুর একটা ছোট্ট সমস্যা ছিল—সে কোনো জিনিস গুছিয়ে রাখতে পারত না। মা প্রতিদিন বলতেন, "টিংকু, নিজের খাবার আর খেলনাগুলো একটু গুছিয়ে রাখো। পরে কিন্তু খুঁজে পাবে না।" টিংকু মায়ের কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিত। সে বলত, "ধুর মা! পরে দেখা যাবে।"
দেখতে দেখতে বনের মধ্যে শীত চলে এলো। গাছের সব পাতা ঝরে গেল, আর চারপাশটা কুয়াশায় ঢেকে গেল। শীতের দিনে বনের পশুপাখিরা সাধারণত বাইরে বের হয় না, তারা আগে থেকে জমিয়ে রাখা খাবার খেয়ে কোটরে বসে গল্প করে।
টিংকুরও খুব খিদে পেল। সে তার ছোট্ট কোটরের কোণায় খাবার খুঁজতে গেল। কিন্তু একি! সেখানে মাত্র দুটো শুকনো বাদাম পড়ে আছে! অথচ সারা গ্রীষ্ম আর বর্ষা জুড়ে সে কত কত ফল আর বাদাম কুড়িয়ে এনেছিল।
টিংকু কপালে হাত দিয়ে ভাবল, "আমার বাকি বাদামগুলো গেল কোথায়?"
সে কোটরের সব খড়কুটো ওলটপালট করল, কিন্তু কোথাও কিছু নেই। আসলে সে যখনই যা খাবার নিয়ে আসত, যেখানে-সেখানে ফেলে রাখত। কোনোটা হয়তো খাটের নিচে চলে গেছে, কোনোটা কোটরের ফুটো দিয়ে নিচে পড়ে গেছে।
খিদেয় টিংকুর পেট চুঁইচুঁই করছে। সে মন খারাপ করে কোটরের দরজায় বসে রইল। ঠিক তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তার বন্ধু মিন্টু। মিন্টু হলো একটা ছোট্ট ইঁদুর। মিন্টুর মুখে একটা মস্ত বড় মিষ্টি ফল।
টিংকুকে উদাস মুখে বসে থাকতে দেখে মিন্টু থামল। সে জিজ্ঞেস করল, "কী রে টিংকু! শীতের সকালে এমন মুখ শুকিয়ে বসে আছিস কেন? খাবার খাসনি?"
টিংকু কেঁদে ফেলে বলল, "আমি সারা বছর কত খাবার এনেছি, কিন্তু এখন একটাও খুঁজে পাচ্ছি না। সব হারিয়ে গেছে। আমার খুব খিদে পেয়েছে, মিন্টু।"
মিন্টু মুচকি হাসল। সে তার ফলটা টিংকুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, "এই নে, আর্ধেকটা তুই খা। আর শোন, তোর খাবার হারায়নি। তুই আসলে সেগুলো গুছিয়ে রাখিসনি বলে খুঁজে পাচ্ছিস না। চল, তোর কোটরটা আজ দুজনে মিলে একটু খুঁজি।"
দুই বন্ধু মিলে টিংকুর কোটর পরিষ্কার করতে শুরু করল। আর তখনই ঘটল ম্যাজিক!
বিছানার তলা থেকে বেরোলো চারটে বড় বাদাম।
দরজার কোণায় শুকনো পাতার নিচে লুকিয়ে ছিল একমুঠো কিশমিশ।
এমনকি টিংকুর খেলনা গাড়ির ভেতরেও পাওয়া গেল দুটো শুকনো ফল!
সব খাবার একসঙ্গে জড়ো করে টিংকু দেখল, বাহ্! অনেক খাবার তো!
টিংকু লজ্জিত হয়ে বলল, "মা ঠিকই বলতেন। গুছিয়ে রাখলে কোনো জিনিস হারায় না, আর বিপদের সময় কষ্টও পেতে হয় না।"
> গল্পের শিক্ষা: নিজের জিনিসপত্র সবসময় গুছিয়ে রাখা উচিত। গোছানো স্বভাব থাকলে প্রয়োজনের সময় কোনো কিছু খুঁজতে হয় না এবং কষ্ট পেতে হয় না।
>
সেই থেকে টিংকু বনের সবচেয়ে লক্ষ্মী আর গোছানো কাঠবিড়ালি হয়ে গেল। এখন সে খাবার এনেই সুন্দর করে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখে।