ছোট গল্প....নীল খামের রহস্য

  নীল খামের রহস্য

— একটি অনির্বাণ সেনের গোয়েন্দা গল্প

সেদিন সন্ধে থেকেই কলকাতায় ঝুম বৃষ্টি নামছিল। গোয়েন্দা অনির্বাণ সেন তার বৈঠকখানায় বসে আয়েশ করে লবঙ্গ চায়ে চুমুক দিচ্ছিল। আমি, অর্থাৎ তার সহকারী বিপ্লব, জানলার বাইরে ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এমন একটা বৃষ্টিভেজা রাতে একটা জমাটি কেস এলে মন্দ হতো না।

ঠিক তখনই দরজার কলিংবেলটা বেজে উঠল।

আমি দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করলেন এক ভদ্রলোক। তাঁর পরনের রেনকোটটা জল ঝরিয়ে একাকার। ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, চোখে তীব্র আতঙ্ক। অনির্বাণ সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "আসুন, ভেতরে আসুন। আমি অনির্বাণ সেন। আর ইনি আমার বন্ধু বিপ্লব।"

ভ ভদ্রলোক সোফায় বসে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললেন, "আমার নাম সোমনাথ চৌধুরী। বালিগঞ্জের চৌধুরী ম্যানশনের মালিক। আমি এক মস্ত বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি, মিস্টার সেন।"

"কী হয়েছে খুলে বলুন," অনির্বাণ শান্ত গলায় বলল।

সোমনাথবাবু পকেট থেকে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট বের করলেন। তার ভেতর থেকে বেরোল একটি নীল রঙের খাম। তিনি বললেন, "আজ সকালে আমার ঠিকানায় এই চিঠিটা এসেছে। কোনো ডাকটিকিট নেই, কেউ এসে লেটারবক্সে ফেলে গেছে।"

অনির্বাণ প্যাকেট থেকে সাবধানে নীল খামটি বের করল। খামের ভেতরে একটুকরো সাদা কাগজ, যাতে টাইপ করা হরফে লেখা:

> "আগামী অমাবস্যার রাতে চৌধুরী ভিলার রাজকীয় মুঘল স্বর্ণমুদ্রা তার আসল মালিকের কাছে ফিরে যাবে। ক্ষমতা থাকলে বাঁচান।"

অনির্বাণ ভুরু কুঁচকে বলল, "মুঘল স্বর্ণমুদ্রা? সম্রাট আকবরের আমলের সেই বিখ্যাত মোহরটি, যা আপনার পূর্বপুরুষরা পেয়েছিলেন?"

"হ্যাঁ," সোমনাথবাবু মাথা নাড়লেন। "সেটি আমাদের পারিবারিক সিন্দুক, যা একটি অতি আধুনিক ইলেকট্রনিক লকার, তাতে রাখা থাকে। লকারের কোড শুধু আমি আর আমার বিশ্বস্ত ম্যানেজার সুবীর ছাড়া কেউ জানে না। আগামীকালই অমাবস্যা। আমি ভীষণ আতঙ্কে আছি।"

অনির্বাণ একটু হাসল। "চৌধুরী মশাই, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আগামীকাল রাতে আমি আর বিপ্লব আপনার বাড়িতে ছদ্মবেশে উপস্থিত থাকব। দেখা যাক, এই রহস্যময় চোরের হাত কত লম্বা।"

 চৌধুরী ম্যানশনে অমাবস্যার রাত

পরদিন রাতে আমরা যখন বালিগঞ্জের চৌধুরী ম্যানশনে পৌঁছালাম, তখন চারদিক নিস্তব্ধ। আকাশ মেঘলা, যেন যেকোনো সময় ঝড় নামবে। সোমনাথবাবু আমাদের তাঁর খাস কামরায় নিয়ে গেলেন, যেখানে সেই বিশাল লোহার সিন্দুকটি রাখা ছিল। ঘরের জানলাগুলোয় লোহার শক্ত গ্রিল লাগানো, আর ঘরের বাইরে দুজন সশস্ত্র পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।

ঘরে উপস্থিত ছিলেন সোমনাথবাবু নিজে, তাঁর ম্যানেজার সুবীর বাবু (যিনি কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ), এবং সোমনাথবাবুর ভাইপো রজত।

অনির্বাণ লকারটি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখল। তারপর ঘরের দেওয়ালে ঝুলতে থাকা একটা প্রাচীন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, "রাত এখন এগারোটা বেজে চল্লিশ। অমাবস্যার তিথি শুরু হতে আর কুড়ি মিনিট বাকি।"

হঠাৎ একটা প্রবল শব্দে বজ্রপাত হলো, আর সেই মুহূর্তেই গোটা বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেল! ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

"সুবীর, জেনারেটরটা চালু করো!" সোমনাথবাবু চিৎকার করে উঠলেন।

সুবীরবাবু পকেট থেকে টর্চ বের করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন জেনারেটর ঘরের দিকে। প্রায় দুই মিনিট পর জেনারেটর চালু হলো এবং আলো ফিরে এল।

কিন্তু আলো আসতেই ঘরে যা দেখলাম, তাতে আমাদের সবার রক্ত হিম হয়ে গেল।

সিন্দুকের ভারী দরজাটা খোলা! আর তার ভেতরের মখমলের বাক্সটি খালি! সম্রাট আকবরের সেই ঐতিহাসিক স্বর্ণমুদ্রা গায়েব!

সোমনাথবাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, "সব শেষ! পুলিশ বাইরে পাহারা দিচ্ছিল, ঘরের দরজা বন্ধ ছিল, তবে চোর ঢুকল কী করে?"

রজত উত্তেজিত হয়ে বলল, "আমি বলছিলাম না জ্যাঠামশাই, পুলিশের ওপর ভরসা করা ভুল হয়েছে!"

অনির্বাণ কিন্তু শান্ত রইল। সে সিন্দুকের কাছে গিয়ে মেঝের দিকে তাকাল। মেঝেতে কয়েক ফোঁটা জলের দাগ। সে ঘরের এক কোণে রাখা ছাতাগুলোর দিকে তাকাল। ম্যানেজার সুবীরবাবু ঠিক তখনই ঘরে ফিরে এলেন। তার হাতে একটা ভেজা ছাতা।

অনির্বাণ বলল, "চৌধুরী মশাই, চোর বাইরে থেকে আসেনি। চোর এই ঘরের ভেতরেই ছিল এবং সে চুরির পর ঘর থেকে চুরির মাল বাইরে পাচার করতে পারেনি।"

"তার মানে?" রজত অবাক হয়ে প্রশ্ন করল।

অনির্বাণ সুবীরবাবুর দিকে এগিয়ে গেল। "সুবীরবাবু, জেনারেটর চালু করতে যাওয়ার সময় আপনার হাতে এই ছাতাটি ছিল না। কিন্তু আসার সময় আপনি ছাতাটি নিয়ে এসেছেন কেন?"

সুবীরবাবু তোতলানো গলায় বললেন, "বাইরে... বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল জেনারেটর ঘরে যাওয়ার সময়..."

"মিথ্যে কথা!" অনির্বাণ ধমক দিয়ে উঠল। "প্যাসেজ দিয়ে জেনারেটর ঘরে যেতে কোনো খোলা আকাশ পার হতে হয় না। আসলে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে আপনি সিন্দুকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিদ্যুৎ চলে যেতেই আপনি সিন্দুকটি খোলেন। আগে থেকেই কোডটি আপনার জানা ছিল। মুদ্রাটি নিয়ে আপনি প্যাসেজে রাখা নিজের এই ভেজা ছাতাটির ভেতরে লুকিয়ে ফেলেন। ভেবেছিলেন, পরে সুযোগ বুঝে ছাতা নিয়ে বেরোনোর সময় মুদ্রাটি পাচার করে দেবেন।"

"প্রমাণ কী?" সুবীরবাবু চিৎকার করে উঠলেন।

অনির্বাণ সুবীরবাবুর হাত থেকে ছাতাটি ছিনিয়ে নিয়ে সজোরে মেঝেতে ঝাড়ল। সঙ্গে সঙ্গে কালো ছাতার ভেতরের খাঁজ থেকে ঝনঝন শব্দে ছিটকে পড়ল উজ্জ্বল এক সোনার মুদ্রা! সম্রাটের সিলমোহর খোদাই করা সেই ঐতিহাসিক স্বর্ণমুদ্রা!

সোমনাথবাবু ও রজত বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। সুবীরবাবু মেঝের দিকে তাকিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন।

বাইরে তখন পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। অনির্বাণ চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "কী হে বিপ্লব, বৃষ্টিভেজা রাতের কেসটা কেমন জমল?"

আমি হেসে বললাম, "একদম খাঁটি সোনার মতো, অনির্বাণ!"


ছোট গল্পঃ.....নীল ডায়েরির রহস্য

 

নীল ডায়েরির রহস্য

কলমে: জেমি


 ১. অসময়ের অতিথি

কলকাতার ক্রিক লেনের দোতলার ফ্ল্যাটটিতে তখন সবে সন্ধ্যার অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। বাইরে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, সঙ্গে হালকা ঠান্ডা হাওয়া। গোয়েন্দা অনিমেষ রায় তাঁর আরামকেদারায় বসে পাইপ ধরিয়েছেন। উল্টো দিকের সোফায় বসে ল্যাপটপে কী একটা কাজ করছিল তাঁর তরুণ সহকারী দীপ্তেন্দু।
হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠল। এই অসময়ে আর এমন দুর্যোগে কে আসতে পারে, তা নিয়ে দুজনের মনেই কৌতূহল জাগল। দীপ্তেন্দু গিয়ে দরজা খুলতেই ঘরে প্রবেশ করলেন মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক। তাঁর পরনে দামী কিন্তু কিছুটা ভিজে যাওয়া কোট, চোখে চশমা এবং মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ।
ভদ্রলোক ঘরে ঢুকেই বললেন, "আমার নাম হিমাংশু চৌধুরী। আমি খুব বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি, মিস্টার রায়।"
অনিমেষবাবু শান্ত গলায় বললেন, "বসুন মিস্টার চৌধুরী। আগে একটু সুস্থির হোন। দীপ্ত, ওনাকে এক কাপ গরম চা দিতে বলো।"
হিমাংশু চৌধুরী সোফায় বসে চশমাটা মুছে নিলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন, "আমি পেশায় একজন প্রত্নতাত্ত্বিক। গত সপ্তাহে আমি পুরুলিয়ার একটা পুরোনো রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে একটা অত্যন্ত প্রাচীন নীল রঙের চামড়ায় বাঁধানো ডায়েরি উদ্ধার করি। ডায়েরিটি কোনো সাধারণ মানুষের নয়, সেটি ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর এক কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রঘুনাথ রায়ের। লোকশ্রুতি আছে, রঘুনাথ তাঁর সমস্ত লুঠ করা ধনসম্পদ একটা গোপন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সেই জায়গার নকশা সংকেত হিসেবে লেখা আছে এই নীল ডায়েরিতে।"
অনিমেষবাবু পাইপে একটা টান দিয়ে বললেন, "আকর্ষণীয়! তা সেই ডায়েরিটি এখন কোথায়?"
হিমাংশু চৌধুরীর গলা কেঁপে উঠল, "সেটাই তো সমস্যা। গতকাল রাতে আমার লেক গার্ডেন্সের বাড়ি থেকে ডায়েরিটি চুরি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, আজ সকালে আমি এই চিঠিটা পেয়েছি।"
তিনি পকেট থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ বের করে অনিমেষবাবুর দিকে এগিয়ে দিলেন। কাগজে লাল কালিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল:
> *"ডায়েরির আশা ছেড়ে দাও চৌধুরী। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যাবে।"*
>
 ২. ঘটনাস্থল পরিদর্শন
পরদিন সকালে বৃষ্টি থামতেই অনিমেষ ও দীপ্তেন্দু হিমাংশু বাবুর লেক গার্ডেন্সের বাড়িতে পৌঁছাল। বাড়িটি বেশ বড় এবং চারপাশটা গাছপালায় ঘেরা। হিমাংশু বাবুর পড়ার ঘরটি ছিল দোতলায়।
অনিমেষবাবু ঘরের চারপাশটা খুব খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন। ঘরের জানলাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, কেবল একটি জানলার কাচ ভাঙা।
"চোর কি এই জানলা দিয়েই ঢুকেছিল?" দীপ্তেন্দু জিজ্ঞেস করল।
অনিমেষবাবু ভাঙা কাচের টুকরোগুলো পরীক্ষা করে বললেন, "না দীপ্ত। কাচের টুকরোগুলো ঘরের বাইরে পড়ে আছে। তার মানে জানলাটি ঘরের ভেতর থেকে ভাঙা হয়েছে, বাইরে থেকে নয়। চোরকে বোঝাতে হতো যে সে জানলা ভেঙে ঢুকেছে। আসলে চোর ঘরের চাবি দিয়েই ঢুকেছিল।"
"তার মানে ঘরের চাবি যার কাছে থাকে, সেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত?" দীপ্তেন্দুর চোখ চকচক করে উঠল।
"একদম ঠিক," অনিমেষবাবু বললেন। "মিস্টার চৌধুরী, আপনার এই ঘরে আর কার কার যাতায়াত আছে?"
হিমাংশু বাবু একটু ভেবে বললেন, "আমার ব্যক্তিগত সচিব প্রণব, আর আমার ভাগ্নে অর্ক। অর্ক ইদানীং শেয়ার বাজারে অনেক টাকা লোকসান করেছে বলে খুব টাকার শান্তিতে আছে।"
অনিমেষবাবু প্রণব এবং অর্ক—দুজনকেই ডেকে পাঠালেন।
প্রণব বাবু অত্যন্ত ভদ্র এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ। তিনি জানালেন, চুরির রাতে তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। অন্যদিকে অর্ক কিছুটা উদ্ধত। সে বলল, "মামা তো সবসময় ওইসব পুরোনো আজেবাজে জিনিস নিয়ে থাকেন। আমার ওসব ডায়েরি নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।"
কিন্তু অনিমেষের তীক্ষ্ণ নজর এড়াল না যে অর্কর হাতের তালুতে একটা সদ্য কেটে যাওয়ার দাগ রয়েছে, যা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা।
 ৩. সংকেতের খোঁজ
অনিমেষবাবু অর্কর হাতের ক্ষত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেই সে কিছুটা থতমত খেয়ে বলল, "ও কিছু না, কাল রান্নাঘরে একটা কাচের গ্লাস ভেঙে হাত কেটে গেছে।"
তদন্ত শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনিমেষবাবু চুপ করে রইলেন। দীপ্তেন্দু জিজ্ঞেস করল, "কী বুঝলেন স্যার? অর্কই কি চোর?"
"অর্ক সন্দেহভাজন ঠিকই, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া ডায়েরিটা চুরি করার পর চোর নিশ্চয়ই পুরুলিয়ার সেই গুপ্তধনের সন্ধানে রওনা দেবে। আমাদেরও পুরুলিয়া যেতে হবে, দীপ্ত," অনিমেষ রায় মৃদু হেসে বললেন।
হিমাংশু বাবুর কাছ থেকে আগেই ডায়েরির কিছু পাতার ছবি নিজের ফোনে তুলে রেখেছিলেন অনিমেষবাবু, যা হিমাংশু বাবু উদ্ধার করার দিন তুলেছিলেন। গাড়িতে যেতে যেতে অনিমেষবাবু সেই ছবিগুলো দেখছিলেন।
ডায়েরির একটি পাতায় লেখা ছিল:
*"মহাবীরের চোখের আলো যেখানে প্রথম পড়ে, ঠিক তার দশ কদম পূর্বে কালভৈরবীর মন্দির। মন্দিরের গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গের নিচে শায়িত আছে মহাকালের সম্পদ।"*
অনিমেষবাবু স্বগতোক্তি করলেন, "মহাবীর... চোখের আলো... কালভৈরবী। হুম, সংকেতটা বেশ জটিল।"
৪. পুরুলিয়ার জঙ্গলে
পরদিন ভোরেই অনিমেষ, দীপ্তেন্দু এবং হিমাংশু বাবু পুরুলিয়ার জয়চণ্ডী পাহাড়ের পাদদেশে এসে পৌঁছালেন। হিমাংশু বাবু ডায়েরিটি যে প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ থেকে পেয়েছিলেন, সেটি জঙ্গলের বেশ গভীরে।
পুরোনো দুর্গের সামনে এসে অনিমেষবাবু চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। সেখানে একটি বিশাল হনুমান (মহাবীর) মূর্তি খোদাই করা ছিল পাথরের গায়ে।
"দীপ্ত, এখন সকাল আটটা। দেখো তো সূর্যের আলো হনুমানজির চোখের ওপর পড়ছে কি না," অনিমেষবাবু নির্দেশ দিলেন।
দীপ্তেন্দু দেখল, সকালের কাঁচা রোদ ঠিক হনুমান মূর্তির চোখের ওপর প্রতিফলিত হয়ে সামনের একটি প্রাচীন পাথরের স্তূপের ওপর গিয়ে পড়ছে।
"স্যার! ওই দেখুন, আলোটা ওই পাথরের ওপর পড়েছে!" দীপ্তেন্দু চিৎকার করে উঠল।
"চমৎকার! ওটাই হলো 'মহাবীরের চোখের আলো'। এবার ওখান থেকে ঠিক দশ কদম পূর্বে চলো," অনিমেষবাবু বললেন।
তাঁরা মেপে মেপে দশ কদম পূর্ব দিকে যেতেই একটি প্রাচীন, প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরের প্রবেশদ্বার দেখতে পেলেন। মন্দিরের দরজার ওপরে ক্ষয়ে যাওয়া খোদাইয়ে লেখা ছিল 'কালভৈরবী মন্দির'।
তাঁরা মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলেন এক কোণে মাটি খোঁড়া হয়েছে। আর সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ, যার হাতে সেই নীল ডায়েরি এবং একটি চাড়ানি (খোঁড়ার যন্ত্র)। সে আর কেউ নয়—হিমাংশু বাবুর ব্যক্তিগত সচিব প্রণব!
তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল অর্ক, কিন্তু তার হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো।
 ৫. রহস্যের সমাধান
প্রণব তাঁদের দেখে চমকে উঠল এবং পকেট থেকে একটা পিস্তল বের করে অনিমেষবাবুর দিকে তাক করল।
"খবরদার! কেউ এক পা-ও এগোবেন না। এই গুপ্তধন এখন আমার!" প্রণব চিৎকার করে বলল।
অনিমেষবাবু অত্যন্ত শান্ত গলায় বললেন, "প্রণব বাবু, পিস্তলটা নামিয়ে দিন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই জঙ্গল ঘিরে ফেলেছে। আপনি পালাতে পারবেন না।"
আসলে পুরুলিয়া পৌঁছানোর আগেই অনিমেষবাবু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে রেখেছিলেন। ঝোপের আড়াল থেকে পুলিশ অফিসাররা রাইফেল তাক করে বেরিয়ে আসতেই প্রণব অস্ত্র ফেলে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
দীপ্তেন্দু তাড়াতাড়ি গিয়ে অর্কর মুখের টেপ খুলে দিল এবং তার বাঁধন কেটে দিল।
অর্ক হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "মামা, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি শেয়ার বাজারে ঋণের জন্য প্রণবদার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলাম। প্রণবদা আমাকে বলেছিল ডায়েরিটা চুরি করে দিলে আমার সব ঋণ মকুব করে দেবে। কিন্তু আমি যখন বুঝতে পারি ও তোমাকে ক্ষতি করতে চায়, আমি রাজি হইনি। ও তখন আমাকে জোর করে ধরে এখানে নিয়ে আসে।"
হিমাংশু বাবু অর্ককে জড়িয়ে ধরলেন।
দীপ্তেন্দু জিজ্ঞেস করল, "কিন্তু স্যার, আপনি কী করে বুঝলেন যে চোর অর্ক নয়, প্রণব বাবু?"
অনিমেষবাবু হেসে বললেন, "খুব সহজ, দীপ্ত। অর্কর হাতের কাটা দাগটা দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ও জানলার কাচ ভেঙে ডায়েরি চুরি করেছে। কিন্তু পরে বুঝলাম, জানলাটি ভেতর থেকে ভাঙা হয়েছিল প্রণব বাবুর চুরির নাটক সাজানোর জন্য। অর্কর হাত কেটেছিল আসলে প্রণব বাবুর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময়, যখন সে ডায়েরিটা প্রণবের হাত থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। প্রণব বাবু জানতেন হিমাংশু বাবুর আসল চাবির গোছা কোথায় থাকে। আর তাছাড়া, হিমাংশু বাবুর ঘরের টেবিল থেকে শুধু ডায়েরি নয়, একটি দামী ফাউন্টেন পেনও চুরি গিয়েছিল, যা আমি আজ সকালে প্রণব বাবুর বুক পকেটে গোঁজা অবস্থায় দেখেছি।"
প্রণব বাবু মাথা নিচু করে রইলেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করল।
অনিমেষবাবু মাটি থেকে নীল ডায়েরিটি তুলে হিমাংশু বাবুর হাতে দিয়ে বললেন, "আপনার আমানত আপনার কাছেই রইল মিস্টার চৌধুরী। তবে এবার এটা কোনো সরকারি জাদুঘরে জমা দিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।"
হিমাংশু বাবু কৃতজ্ঞতায় হাত জোড় করলেন।
পশ্চিমের আকাশে তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে। জয়চণ্ডী পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে অনিমেষ রায় তাঁর পাইপে আর একটা টান দিয়ে বললেন, "চলো দীপ্ত, এবার কলকাতায় ফিরে এক কাপ জমিয়ে চা খাওয়া যাক।"

ছোট গল্পঃ ....শৈশব

 নিঝুম রাতের নীরবতা ভেঙে আচমকা একটা শব্দ হলো। মেঘলা ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ঠিক তিনটে।

বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই সাথে ঝোড়ো হাওয়া। জানালার কাঁচগুলো বাতাসে থরথর করে কাঁপছে। মেঘলা ভাবল হয়তো জানালার পাল্লাই বাতাসে বাড়ি খাচ্ছে। সে বিছানা থেকে নেমে পায়ে পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু জানালার কাছে পৌঁছানোর আগেই তার পায়ের পাতা কেমন যেন ভিজে উঠল।

মেঝেতে হাত দিয়ে মেঘলা দেখল, চারদিক জলে ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, জলটা জানালা দিয়ে আসছে না। জলটা আসছে ঘরের ঠিক মাঝখান থেকে, যেন মেঝে ফুঁড়ে কোনো অদৃশ্য উৎস থেকে জল বেরোচ্ছে!

ভয়ে মেঘলার বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। সে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালাতে গেল, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটটা অন করতেই তার চোখ চড়কগাছ!

মেঝের জলটা সাধারণ জল নয়—একেবারে স্বচ্ছ, নীলচে রঙের। আর সেই জলের ওপর ভেসে আছে ছোট ছোট কাগজের নৌকা। প্রতিটা নৌকায় নিখুঁত অক্ষরে কিছু একটা লেখা। মেঘলা কাঁপতে কাঁপতে একটা নৌকা তুলে নিল। আলো ফেলে দেখল, সেখানে লেখা:

> *"তুমি কি ভুলে গেছো মেঘলা? আজ তোমার সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে এসেছে।"*

মেঘলার মনে পড়ে গেল, ঠিক পনেরো বছর আগে আজকের এই বৃষ্টির রাতেই সে তার প্রিয় খেলনা আর ডায়েরিটা একটা বাক্সে ভরে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল, এক ভারী বৃষ্টির বন্যায় যা ভেসে গিয়েছিল।

সে চমকে উঠে দেওয়ালের দিকে তাকাল। জলের আয়নায় তার নিজের ছায়ার বদলে দেখা যাচ্ছে আট বছরের এক ছোট্ট মেয়েকে, যে খিলখিল করে হাসছে আর তার দিকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে।

মেঘলার ভয়টা এক নিমেষে কেটে গিয়ে এক অদ্ভুত শান্তিতে মনটা ভরে গেল। সে মুচকি হেসে জলের ওপর বসে পড়ল, আর আলতো করে একটা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিল স্মৃতির টানে।

গল্পটি কেমন লাগল? 

ছোট গল্পঃ ....ফেরা

 ফেরা.......

স্টেশনের ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা। কুয়াশায় চারপাশটা কেমন যেন ধোঁয়াটে হয়ে আছে। প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় একা দাঁড়িয়ে ছিল সৌমেন। পকেটে হাত দিয়ে সে একটা পুরনো ট্রেনের টিকিট আঙুল দিয়ে মোচড়াচ্ছিল। টিকিটটা আজকের নয়, ঠিক পাঁচ বছর আগের।

পাঁচ বছর আগে এই স্টেশন থেকেই সে শহর ছেড়ে পালিয়েছিল। ক্ষোভ, অভিমান আর একটা তীব্র জেদ কাজ করছিল তখন। বাবা বলেছিলেন, "নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে এ বাড়িতে ফিরবি না।" সৌমেনও চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। কলকাতায় গিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করেছে, আজ সে একটা বড় কোম্পানির ম্যানেজার। পকেটে টাকা আছে, পরনে দামি কোট। কিন্তু মনের ভেতরের সেই জেদের জায়গাটা আজ কেমন যেন ফাঁকা লাগছে।

বিকেলেই খবর পেয়েছে বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে। জেদটা এক মুহূর্তেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সব কাজ ফেলে প্রথম যে ট্রেনটা পেয়েছে, সেটাতেই উঠে পড়েছে সে।

স্টেশন থেকে বেরোতেই চেনা গন্ধটা সৌমেনকে ছুঁয়ে গেল। সেই ছাতিম তলার মোড়, চায়ের দোকানটা আজ বন্ধ, কিন্তু সাইনবোর্ডটা একই আছে। একটা রিকশা নিয়ে সে যখন বাড়ির গলির মুখে পৌঁছাল, তখন চারদিক নিস্তব্ধ।

বাড়ির সদর দরজাটা খোলাই ছিল। ভেতরে ঢুকতেই সৌমেন দেখল, বারান্দার সেই পুরনো ইজিচেয়ারটায় বাবা বসে আছেন। চুলে পাক ধরেছে অনেক, আগের সেই চওড়া কাঁধ দুটো কেমন যেন ঝুঁকে গেছে। স্ট্রোকের ধাক্কাটা লেগেছে, তবে সামলে উঠেছেন। সৌমেনকে দেখে বাবা চমকে উঠলেন না, যেন জানতেন ছেল ফিরবেই।

সৌমেন ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বাবার পায়ের কাছে বসল। এতদিনের জমে থাকা সব অভিমান, অহংকার এক মুহূর্তে চোখের জল হয়ে বেরিয়ে এলো। সে শুধু বলল, "আমি এসে গেছি, বাবা।"

বাবা কাঁপা কাঁপা হাতটা সৌমেনের মাথায় রাখলেন। মুখে কোনো বাড়তি কথা বললেন না, শুধু চশমাটা খুলে মুছে নিয়ে মৃদু হেসে বললেন, "হাত-মুখ ধুয়ে আয়। তোর মা তোর প্রিয় ক্ষীরের সন্দেশ বানিয়ে রেখেছে।"

সৌমেন বুঝল, পৃথিবীর কিছু হিসেব কখনো বদলায় না। জেতার জন্য কখনো কখনো হেরে গিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয়।


कच्ची मिर्च का खट्टा-मीठा अचार

 कच्ची मिर्च का खट्टा-मीठा अचार चावल के पकवानों, जैसे खिचड़ी, पराठा या बिरयानी का स्वाद दोगुना कर देता है। यहाँ एक बेहतरीन रेसिपी है जिसे बहुत आसानी से और जल्दी बनाया जा सकता है:

🌶️ ज़रूरी सामग्री

| सामग्री | मात्रा | काम |

|---|---|---|

| कच्ची मिर्च (ज़्यादा तीखी न हो तो अच्छा) | 250 ग्राम | मुख्य सामग्री |

| सरसों का तेल | 1 कप | प्रिज़र्वेटिव और फ़्लेवर |

| सरसों का पेस्ट (काला या पीला) | 2 बड़े चम्मच | खट्टापन |

| पंचफोरन पाउडर (भिगोया हुआ) | 1.5 बड़े चम्मच | खुशबू |

| हल्दी पाउडर | 1 छोटा चम्मच | आकर्षक रंग |

| लहसुन का पेस्ट | 1 बड़ा चम्मच | एक्स्ट्रा फ़्लेवर |

| साबुत लहसुन की कलियाँ | 10-12 | काटने के लिए |

| सिरका | 4 बड़े चम्मच | अचार और खट्टापन बनाए रखने के लिए |

| चीनी | 1-2 बड़े चम्मच (ऑप्शनल) | स्वाद बैलेंस करने के लिए |

| नमक | स्वाद के अनुसार (यह थोड़ा तीखा होगा) | बनाए रखने और स्वाद के लिए |

 👩‍🍳 बनाने का तरीका

 1. मिर्च तैयार करना

 कच्ची मिर्च को अच्छी तरह धो लें। फिर **इसे कॉटन के कपड़े या टिशू से पूरी तरह सुखा लें**। ध्यान रखें कि मिर्च में पानी की एक बूंद भी न हो, नहीं तो अचार खराब हो जाएगा।

 अब मिर्च की फली निकाल दें। आप चाहें तो इसे बीच से काट सकते हैं या छोटे टुकड़ों में काट सकते हैं।

 2. मसाले और तेल पीसना

 एक पैन में मीडियम आंच पर सरसों का तेल गर्म करें। जब तेल से धुआं निकलने लगे, तो आंच थोड़ी कम कर दें। * अब तेल में लहसुन का पेस्ट और सरसों का पेस्ट डालकर 1 मिनट तक हल्का भूनें।

 फिर हल्दी पाउडर, नमक और साबुत लहसुन की कलियां डालें।

 3. मिर्च और सिरका डालना

 जब मसाले पीस जाएं, तो कटी हुई हरी मिर्च डालें। मीडियम आंच पर 2-3 मिनट तक चलाएं। ध्यान रखें कि मिर्च पूरी तरह से पिघले नहीं, उनका रंग हल्का हरा होगा।

 अब सिरका, पंचफोरन पाउडर और चीनी डालें। सब कुछ अच्छी तरह मिलाएं और 2 मिनट और पकाएं।

 4. निकालना

 जब तेल अचार के ऊपर तैरने लगे और अच्छी खुशबू आने लगे, तो गैस बंद कर दें। अचार को पूरी तरह ठंडा होने दें।

 💡 कुछ काम के टिप्स (प्रो-टिप्स)

कांच का जार: अचार को स्टोर करने के लिए हमेशा साफ और सूखे कांच के जार का इस्तेमाल करें। प्लास्टिक के कंटेनर में अचार जल्दी खराब हो जाता है।

बिना धूप के भी रख सकते हैं: चूंकि इस अचार में सिरके का इस्तेमाल होता है, इसलिए इसे धूप में रखने में कोई दिक्कत नहीं होती। लेकिन, कभी-कभी इसे धूप में रखने से इसका स्वाद और बढ़ जाता है।

स्टोरेज: आप अचार को नॉर्मल रेफ्रिजरेटर में रखकर 5-6 महीने तक आसानी से खा सकते हैं। अगर आप इसे रूम टेम्परेचर पर रखना चाहते हैं, तो पक्का करें कि मिर्च तेल में डूबी हुई हों।

क्या आप इस अचार को थोड़ा मीठा और खट्टा बनाना चाहते हैं या बहुत तीखा और खट्टा रखना चाहते हैं?

কাঁচা লঙ্কার টক-ঝাল-মিষ্টি আচার

 কাঁচা লঙ্কার টক-ঝাল-মিষ্টি আচার ভাতের পাত থেকে শুরু করে খিচুড়ি, পরোটা বা বিরিয়ানির স্বাদ দ্বিগুণ করে দেয়। খুব সহজে এবং চটজলদি তৈরি করা যায় এমন একটি দারুণ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

 🌶️ প্রয়োজনীয় উপকরণ

| উপকরণ | পরিমাণ | কাজ |

|---|---|---|

| কাঁচা লঙ্কা (বেশি ঝাল না হওয়া ভালো) | ২৫০ গ্রাম | মূল উপাদান |

| সরিষার তেল | ১ কাপ | প্রিজারভেটিভ ও ফ্লেভার |

| সরিষা বাটা (কালো বা হলুদ) | ২ টেবিল চামচ | ঝাঁঝালো টক ভাব |

| পাঁচফোড়ন গুঁড়ো (ভেজে নেওয়া) | ১.৫ টেবিল চামচ | সুগন্ধ |

| হলুদ গুঁড়ো | ১ চা চামচ | আকর্ষণীয় রঙ |

| রসুন বাটা | ১ টেবিল চামচ | বাড়তি স্বাদ |

| আস্ত রসুন কোয়া | ১০-১২ টি | কামড়ে খাওয়ার জন্য |

| সিরকা বা ভিনেগার | ৪ টেবিল চামচ | আচার টিকিয়ে রাখা ও টক ভাব |

| চিনি | ১-২ টেবিল চামচ (ইচ্ছা) | স্বাদ ব্যালেন্স করার জন্য |

| লবণ | স্বাদমতো (একটু কড়া হবে) | সংরক্ষণ ও স্বাদ |

 👩‍🍳 প্রস্তুত প্রণালী

 ১. লঙ্কা প্রস্তুত করা

  কাঁচা লঙ্কা ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর একটি সুতি কাপড় বা টিস্যু দিয়ে একেবারে শুকিয়ে নিন। লঙ্কায় যেন একফোঁটা জল না থাকে, অন্যথায় আচার নষ্ট হয়ে যাবে।

  এবার লঙ্কার বোঁটা ফেলে দিন। আপনি চাইলে মাঝখান থেকে ফালি করে নিতে পারেন অথবা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন।

 ২. মসলা ও তেল কষানো

  একটি কড়াইতে সরিষার তেল মাঝারি আঁচে গরম করুন। তেল থেকে ধোঁয়া উঠলে আঁচ কিছুটা কমিয়ে দিন।

  এবার তেলের মধ্যে রসুন বাটা ও সরিষা বাটা দিয়ে ১ মিনিট হালকা ভেজে নিন।

  এরপর এতে হলুদ গুঁড়ো, লবণ ও আস্ত রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে দিন।

 ৩. লঙ্কা ও সিরকা যোগ করা

  মসলা কষানো হলে তাতে কেটে রাখা কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। লঙ্কা যেন একদম গলে না যায়, কিছুটা সবুজ ভাব থাকবে।

  এবার এতে ভিনেগার (সিরকা), পাঁচফোড়ন গুঁড়ো এবং চিনি দিন। সবকিছু ভালো করে মিশিয়ে আরও ২ মিনিট রান্না করুন।

 ৪. নামিয়ে নেওয়া

  আচার থেকে তেল ওপরে ভেসে উঠলে এবং একটা দারুণ সুগন্ধ বের হলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। আচারটি পুরোপুরি ঠাণ্ডা হতে দিন।

 💡 কিছু দরকারি টিপস (Pro-Tips)

 কাঁচের বয়াম: আচার রাখার জন্য সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের বয়াম ব্যবহার করবেন। প্লাস্টিকের পাত্রে আচার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।

 রোদ না দিলেও চলবে: এই আচারে ভিনেগার ব্যবহার করায় রোদে দেওয়ার ঝামেলা নেই। তবে মাঝেমাঝে রোদে দিলে স্বাদ আরও বাড়ে।

 সংরক্ষণ: আচারটি নরমাল ফ্রিজে রেখে ৫-৬ মাস অনায়াসে খেতে পারবেন। যদি ঘরের তাপমাত্রায় রাখতে চান, তবে নিশ্চিত করুন যেন লঙ্কাগুলো তেলের নিচে ডুবে থাকে।

আপনি কি এই আচারটি একটু মিষ্টি-টক করতে চান নাকি একদম কড়া ঝাল ও টক রাখতে চান?


ছোট গল্পঃ ....প্রতারক

 প্রতারক.....

ক্যাফের জানালায় বৃষ্টির ঝাপটা পড়ছিল, এমন সময় প্রিয়ার ফোনটা বেজে উঠল। অচেনা নম্বর। সে প্রায় উপেক্ষাই করে ফেলেছিল।


"আপনি কি প্রিয়া শর্মা?" এক পুরুষের কণ্ঠস্বর, আকুতিতে ভরা। "আমি সিটি জেনারেলের ডাক্তার মেহতা বলছি। আপনার বাবার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। উনি আপনার খোঁজ করছেন।"


তার বুকটা হিম হয়ে গেল। সে ব্যাগটা হাতে নিয়ে, বন্ধুকে বিড়বিড় করে ক্ষমা চেয়ে, দরজার দিকে দৌড় দিল।


"দাঁড়াও," তার বন্ধু পেছন থেকে ডাকল। "প্রিয়া, তোমার বাবা তো ওখানেই বসে আছেন।"


প্রিয়া থেমে গেল। তার বাবা পেছনের টেবিলে খবরের কাগজ পড়ছিলেন, একদম শুকনো আর নির্বিকার। ফোনের ওপাশের লোকটি তখনও কথা বলছিল, এখন আরও দ্রুত, সার্জারির জন্য টাকা চাইছিল।


সে তার বাবার দিকে তাকাল। তিনি তার দিকে তাকালেন। তিনি ধীরে ধীরে নিজের ফোনটা তুলে ধরলেন। স্ক্রিনে: ৪৭ সেকেন্ডের একটি কল টাইমার চলছে। তিনি ঠোঁট নেড়ে ‘টেস্ট’ শব্দটি বললেন।


প্রতারকটি প্রিয়া একা নেই বুঝতে পেরেই ফোনটা কেটে দিল।


তার বাবা কাগজটা নামিয়ে রাখলেন। "গতকাল তুমি তোমার ওয়ালেটটা টেবিলে রেখে গিয়েছিলে। আমার চিন্তা হচ্ছিল যে আজ তুমি হয়তো দ্বিতীয়বার ভাববে না।" তিনি টেবিলের ওপর দিয়ে একটা ভাঁজ করা চিরকুট এগিয়ে দিলেন। "এই নম্বরটা পুলিশ আমাকে গত মাসে দিয়েছিল। ওরা বলেছে যে সপ্তাহে এরকম দশটা কল আসে।"


প্রিয়া বসে পড়ল। বৃষ্টি পড়তেই থাকল। ভুয়া কলটা প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল, আর এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।

Featured post

ছোট গল্প....নীল খামের রহস্য

  নীল খামের রহস্য — একটি অনির্বাণ সেনের গোয়েন্দা গল্প সেদিন সন্ধে থেকেই কলকাতায় ঝুম বৃষ্টি নামছিল। গোয়েন্দা অনির্বাণ সেন তার বৈঠকখানায় বসে আ...