রঙের উৎসব হোলি 'একটি ছোট গল্প'

 রঙের উৎসব হোলি: একটি ছোট গল্প

অনেক অনেক বছর আগের কথা। এক দেশে ছিল এক দুষ্টু রাজা, যার নাম ছিল হিরণ্যকশিপু। সে মনে করত সে-ই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সবাই যেন শুধু তাকেই পুজো করে।

কিন্তু তার নিজের ছোট্ট ছেলে, প্রহ্লাদ, ছিল খুব শান্ত এবং দয়ালু। প্রহ্লাদ তার বাবাকে নয়, বরং ভগবানকে খুব ভালোবাসত। সে সবসময় সারাদিন ঈশ্বরের নাম জপ করত। এতে রাজা খুব রেগে গেলেন। তিনি চাইলেন প্রহ্লাদকে শাস্তি দিতে।

রাজার এক বোন ছিল, যার নাম ছিল হোলিকা। হোলিকার কাছে একটি জাদুকরী ওড়না ছিল। বলা হতো, সেই ওড়না গায়ে দিলে আগুন তাকে ছুঁতে পারবে না। রাজা হোলিকাকে বললেন, "তুমি প্রহ্লাদকে নিয়ে জ্বলন্ত আগুনের মাঝে বসো। তোমার ওড়না তোমাকে বাঁচাবে, কিন্তু প্রহ্লাদ পুড়ে যাবে।"

কিন্তু কী আশ্চর্য জানো? প্রহ্লাদ যখন আগুনের মাঝে বসেও শান্ত মনে ঈশ্বরের নাম নিচ্ছিল, তখন একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটল! এক দমকা হাওয়ায় হোলিকার গায়ের সেই জাদুকরী ওড়না উড়ে গিয়ে ছোট্ট প্রহ্লাদের গায়ে জড়িয়ে গেল। হোলিকা পুড়ে গেল, কিন্তু প্রহ্লাদ আগুনের মাঝ থেকে হাসিমুখে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এল।

এই গল্প থেকে আমরা কী শিখলাম?

এই গল্প আমাদের শেখায় যে— অন্যায়ের চেয়ে ন্যায়ের শক্তি সবসময় বেশি। অন্ধকার যেমন আলোর কাছে হেরে যায়, তেমনি খারাপ কাজও ভালো কাজের কাছে হেরে যায়।

হোলি কেন পালিত হয়?

১. ভালো মন্দের জয়: হোলিকা দহনের পরের দিনই আমরা রঙ খেলি। এর মানে হলো আমরা খুশি উদযাপন করি যে পৃথিবী থেকে সব মন্দ দূর হয়ে গেছে এবং ভালোর জয় হয়েছে।

২. রঙিন বন্ধুত্ব: বসন্তকালে চারপাশের প্রকৃতি যেমন নানা রঙে সেজে ওঠে, আমরাও তেমনি একে অপরকে রঙ লাগিয়ে আনন্দ ভাগ করে নিই। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ— সব রঙ মিলেমিশে আমাদের জীবনকে রঙিন করে তোলে।

৩. সবাই বন্ধু: হোলির দিনে আমরা ঝগড়া ভুলে গিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরি। আবির মাখানোর সময় মনে হয় আমরা সবাই সমান এবং সবার মনেই ভালোবাসা থাকা উচিত।

তাই এবার যখন তুমি রঙ খেলবে, মনে রাখবে— এই রঙগুলো শুধু হাতে নয়, বরং সবার প্রতি ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের প্রতীক!

कोई टिप्पणी नहीं:

एक टिप्पणी भेजें

Featured post

Brick breakers game

ব্রিক ব্রেকার গেম ব্রিক ব্রেকার স্কোর: 0 লাইফ: 3...