ইলিশ-পিটুলি (অনেকে একে ইলিশের পিটুলি বা পিয়াজ-পিটুলি বলেন) একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুস্বাদু বাঙালি পদ। চালের গুঁড়ো বা বাটা (পিটুলি) দিয়ে এই রান্নাটি করা হয়, যার ফলে ঝোলটা বেশ ঘন এবং মাখোমাখো হয়।
নিচে সহজ পদ্ধতিতে ইলিশ-পিটুলির রেসিপি দেওয়া হলো:
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ইলিশ মাছ: ৪-৫ টুকরো
চালের গুঁড়ো (বা আতপ চাল বাটা): ২ টেবিল চামচ (এটিই হলো পিটুলি)
কালো জিরে: ১/২ চা চামচ
কাঁচা লঙ্কা: ৫-৬টি (মাঝখান থেকে চেরা)
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ (ঝাল নিজের স্বাদমতো)
সর্ষের তেল: ৪-৫ টেবিল চামচ
নুন: স্বাদমতো
প্রস্তুত প্রণালী
১. মাছ ম্যারিনেট করা: প্রথমে ইলিশ মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর সামান্য নুন ও হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
২. পিটুলি তৈরি: ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো সামান্য জলে গুলে একটা পাতলা মিশ্রণ বা 'পিটুলি' তৈরি করে সরিয়ে রাখুন।
৩. মাছ হালকা ভাজা: কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে নুন-হলুদ মাখানো মাছের টুকরোগুলো দিয়ে হালকা করে এপিঠ-ওপিঠ ভেজে তুলে নিন। (ইলিশ মাছ বেশি কড়া করে ভাজলে তার স্বাদ কমে যায়)।
৪. ফোড়ন ও মশলা কষানো: ওই তেলের মধ্যেই কালো জিরে এবং ৩-৪টি চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে বাকি হলুদ গুঁড়ো ও লঙ্কা গুঁড়ো সামান্য জলে গুলে কড়াইতে দিন। মশলাটি মাঝারি আঁচে ১ মিনিট কষিয়ে নিন।
৫. ঝোল দেওয়া: এবার কড়াইতে পরিমাণমতো জল (আনুমানিক দেড় থেকে দুই কাপ) এবং স্বাদমতো নুন দিন। ঝোল ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৬. মাছ ও পিটুলি দেওয়া: ঝোল ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট ফুটতে দিন যাতে মাছের ফ্লেভার ঝোলে মেশে।
৭. ঘন করা: এইবার আঁচটা একটু কমিয়ে, আগে থেকে গুলে রাখা চালের গুঁড়োর মিশ্রণটি (পিটুলি) অল্প অল্প করে ঝোলে ঢালুন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন (নাহলে দলা পাকিয়ে যেতে পারে)।
৮. ফিনিশিং টাচ: পিটুলি দেওয়ার পর ঝোলটা দ্রুত ঘন হতে শুরু করবে। আরও ২-৩ মিনিট ফুটিয়ে নিন যাতে চালের গুঁড়োর কাঁচা ভাব চলে যায়। নামানোর আগে উপর থেকে বাকি চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং ১ চামচ কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে ঢাকা দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
> পরিবেশন: গরম গরম ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাতের সাথে এই মাখোমাখো ইলিশ-পিটুলি পরিবেশন করুন। এর স্বাদ সত্যিই অতুলনীয়!
>
कोई टिप्पणी नहीं:
एक टिप्पणी भेजें