বল্টু ও তার অসাধ্য সাধন
আমাদের অতি পরিচিত বল্টু একবার স্কুলে বাংলা ক্লাসে বসে ঝিমাচ্ছিল। শিক্ষক মহোদয় লক্ষ্য করলেন বল্টু ক্লাসে একদমই মনোযোগ দিচ্ছে না। তিনি ভাবলেন বল্টুকে একটু জব্দ করা যাক।
তিনি চিৎকার করে বললেন, "বল্টু! বল দিনি, অমরনাথ কে?"
বল্টু ধড়ফড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে একটু ভেবে বলল, "স্যার, অমরনাথ হলো এমন একজন লোক যে কোনোদিন মরবে না।"
শিক্ষক রেগে গিয়ে বললেন, "গাধা কোথাকার! একদম ভুল উত্তর। এইবার বল, গরু আমাদের কী দেয়?"
বল্টু আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিল, "স্যার, গরু আমাদের হোমওয়ার্ক দেয়!"
শিক্ষক অবাক হয়ে বললেন, "গরু তোকে কীভাবে হোমওয়ার্ক দেয় রে?"
বল্টু কাঁচুমাচু মুখে বলল, "কেন স্যার? কাল যখন আমি মাঠের পাশ দিয়ে আসছিলাম, দেখলাম গরু ঘাস খাচ্ছে। আপনিই তো বলেছিলেন, 'মন দিয়ে ঘাস (পাঠ) না পড়লে পরীক্ষা ভালো হবে না'। আমি ভাবলাম গরু হয়তো পড়াশোনা করছে আর আমাকে দেখে ভাবছে— তুই কেন পড়ছিস না? তাই আমি বাড়ি ফিরে পড়তে বসে গেলাম!"
শিক্ষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "তোর সাথে তর্ক করা মানেই সময় নষ্ট। আচ্ছা, শেষ একটা সহজ প্রশ্ন করি। বল দেখি, মশা কয় প্রকার?"
বল্টু এবার একটু সময় নিয়ে বলল, "স্যার, মশা প্রধানত তিন প্রকার।"
১. ভদ্র মশা: যারা কামড়ানোর আগে কানের কাছে গান গেয়ে অনুমতি নেয়।
২. অসভ্য মশা: যারা গান না গেয়েই সোজা কামড় বসিয়ে দেয়।
৩. শিক্ষিত মশা: যারা কামড়ানোর পর সেখানে একটা লাল রঙের গোল দাগ দিয়ে দেয়, যাতে পরের দিন আমি বুঝতে পারি ঠিক কোথায় চুলকাতে হবে!
পুরো ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ল। শিক্ষক নিজের কপাল চাপড়ে চেয়ারে বসে পড়লেন আর বিড়বিড় করে বললেন, "আমি ইস্তফা দিতে চাই!"
বল্টু তখন ভাবলেশহীন ভাবে বসে তার পরের 'গবেষণার' চিন্তা করতে লাগল।
कोई टिप्पणी नहीं:
एक टिप्पणी भेजें