ছোট গল্প

 

 স্মৃতির খাম

প্রতিদিনের মতো আজও বিকেলটা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই অবিনাশবাবু এসে বসলেন মোড়ের মাথার চা-দোকানে। হাতে তাঁর একটা পুরোনো, জীর্ণ চামড়ার ব্যাগ। বয়সের ভারে চুলগুলো সব পাকা, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।

দোকানি রতন চিনি ছাড়া এক কাপ কড়া লিকার চা এগিয়ে দিয়ে বলল, "দাদু, আজও কি পোস্টম্যান আসেনি?"

অবিনাশবাবু মৃদু হেসে চায়ে চুমুক দিলেন। "না রে রতন, পোস্টম্যান তো সকালেই ঘুরে গেছে। আজ কোনো চিঠি ছিল না।"

পাশে বসে থাকা তরুণ অনীক কৌতুহলী হয়ে উঠল। স্মার্টফোন থেকে চোখ সরিয়ে শুধোল, "দাদু, এই মেসেজিং আর ভিডিও কলের যুগেও আপনি চিঠির অপেক্ষা করেন? ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপে তো এক সেকেন্ডে খবর চলে আসে!"

অবিনাশবাবু স্মিত হেসে ব্যাগ থেকে একটা হলুদ হয়ে যাওয়া পুরোনো খাম বের করলেন। ধীর গলায় বললেন, "ভাইটি, স্ক্রিনের নীল আলোয় যে বার্তা ভেসে ওঠে, তাতে শব্দ থাকে, কিন্তু অনুভূতির উষ্ণতা থাকে না। এই চিঠিটা আমার স্ত্রী লিখেছিল প্রায় ত্রিশ বছর আগে, যখন আমি চাকরির সূত্রে বহুদূরে ছিলাম। কাগজটার ভাঁজে ভাঁজে তার হাতের স্পর্শ, শুকনো কালির পেছনে লুকিয়ে থাকা তার আবদার—এসব কি হোয়াটসঅ্যাপের টেক্সটে পাওয়া যায়?"

অনীক ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল। প্রতিদিন স্ক্রিনে হাজারো নোটিফিকেশনের ভিড়ে সত্যি তো, এমন আবেগ সে শেষ কবে অনুভব করেছে?

অবিনাশবাবু খামটা আবার সযত্নে ব্যাগে রাখতে রাখতে বললেন, "আমি নতুন কোনো চিঠির অপেক্ষা করি না ভাই। এই পুরোনো চিঠিটাই রোজ সাথে নিয়ে আসি, যাতে আজকের গতিময় দুনিয়ায় এসে একটু থমকে দাঁড়াতে পারি।"

সন্ধ্যার ঠাণ্ডা বাতাসে তখন চায়ের গরম ধোঁয়া উড়ছিল। অনীক আস্তে করে নিজের ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে রেখে অবিনাশবাবুর দিকে ঘেঁষে বসল, তারপর বলল, "দাদু, আপনার এই চিঠির পেছনের গল্পটা আমাকে পুরোটা বলবেন?"


कोई टिप्पणी नहीं:

एक टिप्पणी भेजें

Featured post

ছোট গল্প

    স্মৃতির খাম প্রতিদিনের মতো আজও বিকেলটা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই অবিনাশবাবু এসে বসলেন মোড়ের মাথার চা-দোকানে। হাতে তাঁর একটা পুরোনো, জীর্ণ চাম...